প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আবার প্রযুক্তিরই বিভিন্ন বিষয় আমাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষে দিন দিনই উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবন। আবার এই প্রযুক্তি নিয়েই মানুষের রয়েছে বিভিন্ন ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি। সঠিক ধারণা থাকলেও অনেকেই প্রযুক্তির ব্যাপারে ভুল ধারণা মনে পোষণ করে রেখেছেন, বিশেষ করে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে অনেকেরই রয়েছে নানা ভুল ধারণা।
আজ আপনাদের সামনে এমনই কয়েকটি প্রচলিত বিষয় তুলে ধরা হবে।

রোবট হবে মানুষের বন্ধু

অনেকেই একটি ব্যাপার নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, একসময় পৃথিবীর কতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেবে রোবট। যার ফলাফল হতে পারে বেশ ভয়ংকর।
বিভিন্ন উন্নত দেশ চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন ব্যবহার করছে এবং একমাত্র যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া এর ব্যবহার তেমন একটা দেখা যায়নি। এখন চিন্তার বিষয় হচ্ছে, রোবট সদৃশ এই ড্রোনের হাতে যদি কতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়, অর্থাৎ তাদের যদি নিজেদের মত করে হামলার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে কি ঘটবে ? সেক্ষেত্রে মানুষ কি পারবে ড্রোনের ইচ্ছা পরিবর্তন করতে ?
যদি এই ধরণের ঘটনা ঘটনা ঘটে, তাহলে তাদের হাতে এমন কিছু ক্ষমতা চলে যেতে পারে যা যাওয়া উচিত নয়। বর্তমানে কিছু মেডিকেল রোবট রয়েছে, যারা ডাক্তারের ভূমিকা পালন করছে। রোগীর রোগের লক্ষণ জেনে নেওয়া থেকে শুরু করে কাউন্সেলিং পর্যন্ত করতে সক্ষম এই রোবট।
আমরা হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক কাজই তুলে দেব এই যন্ত্রমানবের হাতে যা কোনভাবেই মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। আর একসময় হয়তো আমরা আমাদের আবিষ্কার করবো রোবটের উপর নির্ভরশীল হিসেবে। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত কম্পিউটার বিজ্ঞানী, রোবট নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞদের এক সম্মেলনে বলা হয়, কিভাবে রোবট ব্যবহার করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের বিভিন্ন তথ্য। আর এর মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে অপরাধ কর্ম।
আর তাই তাদের পরামর্শ হচ্ছে, এই বিষয়গুলো এখন থেকেই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। 

শীঘ্রই আসছে উড়ন্ত গাড়ি

উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কারের স্বপ্ন মানুষ দেখে আসছে অনেক দিন ধরেই। যার মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই বাতাসে চলতে পারবে এবং যেকোন স্থানে সহজে ও নিরাপদে অবতরন করতে পারবে।
অনেকেই বিভিন্ন ছবিতে ফ্লাইং কার দেখেছেন। মাটি থেকে উড্ডয়ন করে উড়তে শুরু করে বাতাসে। ১৯১৭ সালে প্রথম মানুষের সামনে উন্মুক্ত হয় বাতাসে ভেসে বেড়ানোর যান। এরপর একই রকমের আরও অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সফল হয়নি তেমন কোনটিই। হেনরি ফোর্ড বলেছিলেন, ১৯৪০ সালে আসবে উড়ন্ত গাড়ি। কিন্তু সেরকম কিছুই অবলোকন করেনি গত শতাব্দী।
একবিংশ শতাব্দীর এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো সেরকম কিছু দেখা যায়নি। নাসা একবার উদ্ভাবকদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। যার লক্ষ্য ছিল "Personal Air Vehicle" তৈরি করা। তবে নাসা পরে এই উদ্যোগ থেকে সরে আসে।
বিভিন্ন দিম দিয়ে এই ধরণের গাড়ি এখনো সাধ্যের বাইরে। খরচ, চলার পথ এবং নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের সম্ভাবনা- এগুলোই বড় বাঁধা।
যদিও বিভিন্ন সময় অনেকেই এই ধরণের অনেক কিছু বানিয়ে দেখিয়েছিল, তবে সেগুলো ছোটখাট এয়ারক্রাফট ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। আর তাই এই ধরণের যান এখনো স্বপ্ন ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

জলবায়ু পরিবর্তন কি রোধ করা সম্ভব ?

আমদের প্রিয় এ পৃথিবী প্রতিনিয়তই জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু কোনভাবেই কি এটি বন্ধ করা সম্ভব নয় ? জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে হয়তো এটি কমিয়ে আনা যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বড় ধরণের কিছু দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। বিশ্বের বাঘা বাঘা জলবায়ু এবং পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়ংকর ধাপ আমরা অতিক্রম করে ফেলেছি যেখান থেকে পেছন ফিরে যাওয়ার আর কোন উপায় নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিকগুলো আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। যার ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়েছে। ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আগের থেকে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়ে ফিরে ফিরে আসছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষ এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার। সাগরের তীরে অবস্থিত ছোট দেশ ট্যুভেলু ইতোমধ্যেই বড় ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে শুরু করেছে। যা অব্যাহত থাকলে একসময় দেশটির অস্তিত্বই থাকবেনা।
এখন কথা হল, আমরা যদি আজ থেকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন বন্ধ করে দিই, তাহলে কি এই অবস্থা থেকে উত্তরন হবে ? না, সেক্ষেত্রে শতাব্দীর মাঝামাঝি দিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও এক ডিগ্রী বৃদ্ধি পাবে। কারন পৃথিবীতে বর্তমানে যে পরিমান কার্বন-ডাই-অক্সাইড রয়েছে, সেটি মিলিয়ে যেতে আরও অর্ধ শতাব্দী সময়ের প্রয়োজন। কিছু দেশ এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য কাজ করছে। যেমন, নরওয়ে তাদের বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড পাম্প করে মাটির নিচের তেলকুপে পাঠাচ্ছে। গ্রীনহাউজ গ্যাস বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষের দিকে ৩ থেকে ৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট বেড়ে যাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা।
আর তাই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব একটা সহজ হবে না।