সাধারনত অ্যান্ড্রয়েডের আসল ভার্সনের প্রকাশের পূর্বে বেশ কিছু আপডেট দেখা যায়। এইসব আপডেটগুলো মূলত অপারেটিং সিস্টেমে চলার আগে পরিক্ষামূলক ভাবে দেখে নেওয়া হয়, যেখানে বিভিন্ন বাগ (সফটওয়্যারের ভুল) ঠিক করা হয় এবং নতুন ফিচার যোগ করা হয়। সাধারণত, নতুন প্রত্যেকটি ভার্সনের কোড নাম থাকে এবং কোড নামগুলো আবার বর্ণানুক্রমিক ভাবে সাজানোও থাকে যেমন কাপকেক, ডোনাট, এক্লিয়ার, ফ্রোয়ো, জিঞ্জারব্রেড, হানিকম্ব, আইস ক্রিম স্যান্ডউইচ এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালের অক্টোবর এর ৩১ তারিখে মুক্তি পায় অ্যান্ড্রয়েডের স্ট্যাবল সংস্করণ “কিটক্যাট।” সম্প্রতি গুগলের নেক্সাস ৫ এ পাওয়া যাচ্ছে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ এই সংস্করণটি। এছাড়া স্যামসাং এর গ্যালক্সি এস৫, এস৪ সহ গুগল এর নেক্সাসের অন্যান্য ডিভাইস গুলোতেও আসতে শুরু করেছে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ বা “কিটক্যাট” সংস্করণটি। কিটক্যাট ৪.৪ আসলে হানিকম্ব ৪.৩ এর মত ছোট কোন আপডেট না, এটি একটি মেজর রিলিজ। যার মধ্যে আনা হয়েছে ব্যাপক কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং যোগ করা হয়েছে কিছু অসাধারণ ফিচার। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক এবারের সংস্করনের উল্লেখযোগ্য ফিচার এবং পরিবর্তন গুলো- গুগল এক্সপেরিয়েন্স লাঞ্চারgoogle_experience_luncerটেকনিক্যালি গুগলের এই লাঞ্চারটি অ্যান্ড্র্য়েড ৪.৪ এর অংশ নয়, কিন্তু গুগলের নেক্সাস ৫ এ অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ এর সাথে অফিসিয়ালি ইন্টিগ্রেটেড হয়েছে গুগলের এক্সপেরিয়েন্স লাঞ্চারটি। গুগলের সচ্ছ এ অ্যাপ লাঞ্চারটিতে স্ট্যাটাস বার সহ হোম স্ক্রিনে থাকছে নেভিগেশন বার, পূর্বের মত ব্লাক বার গুলোর পরিবর্তে এবারের সংস্করণটিতে আনা হয়েছে সচ্ছতা। যার ফলে ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা আপনার পছন্দের ওয়াল-পেপারটি দেখতে আর কোন অসুবিধেই হবে না। ডায়ালার সার্চdialer_searchআন্ড্রয়েড ৪.৪ এ যুক্ত হওয়া নতুন ডায়ালার এর মাধ্যমে আপনি ব্যবসায়িক উদ্যেশ্যে যে কোন প্রতিষ্ঠানকে কল করতে পারবেন ডায়ালার থেকেই। বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করা যাক যেমন ধরুন আপনি আপনার ডায়ালার এ “pizza” লিখে সার্চ করলেন যাতে কাছাকাছি কোন পিৎজা রেস্টুরেন্ট এ কল করতে পারেন। ডায়ালার এখন আপনাকে আপনার কাছাকাছি যত পিৎজা রেস্টুরেন্ট আছে, তাদের সবার ফোন নাম্বার লিস্ট আকারে দেখিয়ে দিতে থাকবে। এখন থেকে যখনি আপনি কোন ফোন কল পাবেন অ্যান্ড্রয়েড স্বয়ংক্রিয় ভাবে গুগলে সার্চ করে আপনাকে ফোন দাতার যথা সম্ভব সঠীক ইনফরমেশন দেখানোর চেস্টা করবে। অ্যান্ড্রয়েডের এই ফিচারটি ডিফল্ট ভাবে এনাবল করা থাকে, আপনি ইচ্ছে করলে এটিকে ডিসএবলও করে দিতে পারেন। বলাই বাহুল্য যে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ এ ডায়ালার এখন ‘পাওয়ার্ড বাই গুগল’। ব্লু আউট গ্রে ইনblu_is_out_gray_is_inঅ্যান্ড্রয়েডের ৪.৪ এ তাৎখনিক ভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি হলো এর ইন্টারফেসটি। পূর্বের সব ভার্শনের মত নিওন-ব্লু হ’লো ইন্টারফেস এর পরিবর্তে এবারের ভার্শনে ব্যবহার করা হয়েছে প্রাকৃতিক ধুসর রঙটি। যেমন ব্যাটারি, ওয়াই-ফাই, অ্যান্ড্রয়েডের স্টাটাস বারের সেলুলার আইকন গুলো এখন ধুসর। কুইক সেটিং’স প্যানেল সহ গুগলের কি-বোর্ড এর কালারও এখন থেকে ধুসর। থিওরেটিক্যালি অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য এটি বাড়তি কিছু সুবিধা এনে দিবে, যেমন নেটফ্লিক্স এর লাল রঙের অ্যাপ নিল রঙের পরিবর্তে ধুসর রঙের মাঝে আরো সুন্দর দেখাবে। হ্যাংআউট এর ম্যাসেজ ইন্টিগ্রেশনহ্যাংআউট এর ম্যাসেজ ইন্টিগ্রেশনগুগল তাদের অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ এ হ্যাংআউট অ্যাপটিকে এসএমএস এর সাথে ইন্টিগ্রেটেড করে দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে আর বাড়তি কোন ম্যাসেজিং অ্যাপ এর প্রয়োজন পড়বে না। অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ এ হ্যাংআউট অ্যাপটি সয়ংক্রিয় ভাবে নিজেকে “SMS provider” নামে রেজিস্ট্রার করে নিবে। এর ফলে যে অন্যান্য অ্যাপ গুলো “SMS provider” নামে রেজিস্ট্রার করতে পারবে না তা নয়, অবশ্যই পারবে কিন্তু তখন ঐ নির্দিষ্ট অ্যাপটি আপনার ডিফল্ট অ্যাপ এ পরিনত হয়ে যাবে। আর যেকোন অ্যাপই আপনার সব ইনকামিং এসএমএস পড়তে পারবে কিন্তু এসএমএস পাঠানোর জন্য আপনাকে আপনার ডিফল্ট অ্যাপটিকেই ব্যবহার করতে হবে। প্রিন্টিংprintingঅ্যান্ড্রয়েডের কিটক্যাট সংস্করণটিতে যুক্ত হল প্রিন্টিং ফ্রেমওয়ার্ক। অ্যান্ড্রয়েডের এই বিল্ট-ইন সিস্টেম ফিচারটি প্রাথমিক ভাবে শুধু মাত্র গুগলের ক্লাউড প্রিন্ট এবং এইচ-পি’র ইপ্রিন্ট সমর্থন করবে। কিন্তু ডেভেলপাররা চাইলে এপিআই ব্যবহার করে আরো অনেক প্রিন্টার জুড়ে নিতে পারেন। এর মানে আপনি গুগল প্লে থেকে একটি অ্যাপ নামিয়েই অন্যান্য প্রিন্টারের সাপোর্ট পাবেন এবং প্রিন্টার গুলো আন্ড্রয়েড এর প্রিন্টিং সিস্টেমের সাথেও ইন্টিগ্রেটেড হয়ে যাবে। এখন থেকে অ্যান্ড্রয়েডের সেটিং স্ক্রিনে নতুন একটি প্রিন্টিং অপশন দেখা যাবে এবং প্রিন্ট করার জন্য অনেক অ্যাপ ও থাকবে সেখানে। যেমন ধরুন গুগল ক্রম থেকে কোন ওয়েবসাইট প্রিন্ট করার জন্য মেনু বাটিন প্রেস করে ওখান থেকে প্রিন্ট মেনু প্রেস করলেই গুগল ক্রম, ওয়েবসাইটটিকে প্রিন্ট করার জন্য অপশন দেখাবে, যেখান থেকে অনায়েসেই আপনি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন আপনার কাঙ্খিত ওয়েবপেজটিকে। ফাইল পিকারfile pickerফাইল নিয়ে কাজ এবং ফাইল ব্রাউজ করার জন্য কিটক্যাট এ যুক্ত করা হয়েছে নতুন ফাইল পিকার ফিচার। এই ফাইল পিকারের মাধ্যমে লোকাল স্টোরেজ এবং ডিভাইসের নিজস্ব স্টোরেজ সহ ক্লাউড স্টোরেজ যেমন গুগল ড্রাইভ থেকেও ফাইল ব্রাউজ করা যাবে। অন্যন্য ড্রাইভ এর মধ্যে ‘বক্সকে’ ইতোমধ্যেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্কাই-ড্রাইভ এবং ড্রপ-বক্সের মত ক্লাউড সার্ভিস প্রভাইডাররা হয়তবা “document provider” এর মাধ্যমে লিস্ট এ চলে আসতে পারে। তো, যখনই আপনি ফাইল পিকার ব্যবহার করবেন তখন আপনি ক্লাউড স্টোরেজ অথবা লোকাল ডিভাইস যেকোন টা থেকে ফাইল নির্বাচন করার সুবিধা পাবেন। ইমার্সিভ মুডimmarsive_modeঅ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ এ যুক্ত হল “ইমার্সিভ মুড” নামের নতুন সুবিধাটি। এর মাধ্যমে (ইমার্সিভ মুড সাপোর্ট করে এমন) অ্যাপগুলোতে ফুলস্ক্রিন সুবিধা পাওয়া যাবে। ইমার্সিভ মুড ব্যবহার করলে ডিফল্ট স্টাটাস বার এবং নিচে থাকা অন-স্ক্রিন বাটন গুলো(নেক্সাস ডিভাইস গুলোতে) আড়াল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে এখন থেকে গেম, ই-বুক, ভিডিও প্লেয়ার গুলো ফুল স্ক্রিন ব্যবহারের সুবিধা পাবে। কিন্তু এই অপশনটা সব অ্যাপ এ থাকে না, এটা ডেভেলপারদের উপর, তারা যদি মনে করেন ফুলস্ক্রিন অ্যাপটির জন্য সুবিধা জনক, তাহলে তারা ফিচারটি দিতে পারেন অন্যথায় নয়। আর ফুলস্ক্রিন থেকে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে শুধু উপরের দিকে অথবা নিচের দিকে একটু সোয়াপ করলেই হবে। ই-মাইল অ্যাপ ইম্প্রুভমেন্টe-mail_app_improvementঅ্যান্ড্রয়েডে ডিফল্ট ভাবে ইন্টিগ্রটেড অবস্থায় থাকা ই-মেইল অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের মাঝে কখনোই অতটা সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু এবারের কিটক্যাট সংস্করনে অ্যাপটিকে নতুন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, জি-মেইল অ্যাপ এর মত করে সাজানো হয়েছে এর নেভিগেশন এবং সেটিং’স এর ফিচার গুলো। আর তাই এখন কিছুটা হলেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কিটক্যাটের ডিফল্ট এই অ্যাপটি। ট্যাপ অ্যান্ড পেtap and payকিটক্যাটের নতুন এই সংস্করণটিতে যুক্ত হল ট্যাপ অ্যান্ড পে অপশন। সেটিং’স স্ক্রিন এ থাকা এ অপশনের মাধ্যমে “host card emulation” ব্যবহার করে যেকোন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ NFC স্মার্ট কার্ডের অনুকরন করতে পারবে। অদুর ভবিষ্যতে NFC সমর্থিত সে কোন ডিভাইস, গুগল ওয়ালেট অ্যাপ এর মাধ্যমে সেবা গ্রহন করতে পারবে। তাই এখন অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ এ অ্যাপ গুলো রিডার মুড ব্যবহার করে NFC রিডার এর মত কাজ করতে পারে। অপটিমাইজ মেমরিoptimige_memoryএই পরিবর্তনটি আসলে কিটক্যাট এ আনা পরিবর্তন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। অসাধারণ আর্কিটেকচার ব্যবহার করে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এর অপারেটিং সিস্টেমকে অপটিমাইজ করে এর মেমরি সাইজকে ছোট আকৃতিতে পরিনত করার মাধ্যেমে। এর মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট এখন ৫১২ র‍্যাম এর ডিভাইসেও অনায়েসে মানিয়ে নিতে পারবে। এর মানে যে সব ম্যানুফ্যাকচারাররা তাদের লো-এন্ড ডিভাইসে এখনও অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ জিঞ্জার ব্রেড চালাচ্ছিল তারা এখন ইচ্ছে করলেই কিটক্যাটে সিফট হতে পারবেন। ডেভেলপার অপশন স্ক্রিনে থাকা নতুন “প্রসেস স্টেটস” অপশনের মাধ্যমে আপনি দেখতে পাবেন কোন অ্যাপ কতটুকু মেমরি ব্যবহার করছে এবং তাদের রানিং প্রোসেস এর পারসেন্টেজ(%)। এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ডেভেলপাররা। এই ছিল অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ "কিটক্যাটের" উল্লেখযোগ্য কিছু ফিচার এবং পরিবর্তন। এছাড়াও ডেভেলপারদের জন্য গুগলের অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট পেজ এ রয়েছে আরো অনেক ফিচারের তালিকা। যাদের বেশির ভাগই ডেভেলপারদের জন্য করা, যাতে করে তারা ঐসব ফিচার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ তৈরি করতে পারে।