আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস হচ্ছে ‘সার্টফোন’। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রযুক্তি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দামের হরেক রকম সুবিধা বিশিষ্ট স্মার্টফোন এবং এগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বোচ্চ মানের প্রযুক্তি। আপনি যে অপারেটিং সিস্টেম বিশিষ্ট স্মার্টফোনই ব্যবহার করে থাকেন না কেন, হতে পারে আইওএস, উইন্ডোজ অথবা অ্যান্ড্রয়েড - এই সব ক্ষেত্রেই কিন্তু একটি বিষয় খুবই কমন। ‘ব্যাটারী ব্যাক-আপ ক্ষমত।’ একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন যে আগে আমরা আমাদের মুঠোফোনে কী কী করতাম আর বর্তমানে আমরা মুঠোফোনের এই আপডেটেড সংস্করণ ‘আধুনিক মুঠোফোন’ তথা স্মার্টফোনটি কী কী কাজে ব্যবহার করছি। ফলে স্মার্টফোনটি দিয়ে নানা রকম কাজ করায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশিই খরচ হয়ে থাকে এগুলোর ব্যাটারী যাকে প্রযুক্তি ভাষায় আমরা বলে থাকে ‘ব্যাটারী ড্রেইন’ হওয়া। আর অবশ্যই এই ব্যাটারী ব্যাক-আপের বিষয়টা বেশি মূল্যের ডিভাইস বা কম মূল্যের ডিভাইসের উপর নির্ভর করেনা। সিম্ফোনি থেকে স্যামসাং - যে কোন স্মার্টফোনেই এই ব্যাটারী ড্রেইনের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে কিছু পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে আমরা আমদের স্মার্টফোনের এই ব্যাটারী ব্যাক-আপ কিছুটা হলেও বেশি সময় ধরে রাখতে পারব। কীভাবে? চলুন, শেয়ার করে ফেলি আপনাদের সাথে।
 
১। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুনঃ আমরা যখন ইনডোরে থাকি তখন আমাদের স্মার্টফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখলেও কিন্তু স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ব্যবহার করতে আমাদের সমস্যা হয়না। সমস্যা কিছুটা হয় যখন আমরা দিনের আলোয় বাইরে যাই। তবে এখন এমন কিছু ডিসপ্লে প্রযুক্তি স্মার্টফোন গুলোতে ব্যবহার হচ্ছে যাতে করে সূর্যের আলোতেও খুব বেশি একটা সমস্যা হয়না। যাই হোক, আমরা খুব সহজেই আমাদের স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ডিম করে অর্থাৎ ব্রাইটনেস কমিয়ে ব্যাটারীর খরচ কমাতে পারি। সেটিংস মেন্যু থেকে ডিসপ্লে ব্রাইটনেস কমিয়ে এবং নির্দিষ্ট ঠিক কত সময় পর ডিসপ্লেটি বন্ধ হয়ে যাবে বা স্লিপ মোডে যাবে সেটি সিলেক্ট করতে পারি। এতে করে আমরা অন্তত আগের চাইতে স্মার্টফোনের ব্যাটারী ব্যাক-আপ বেশি পাব। 
২। রেডিও বা ওয়্যারলেস সুবিধাগুলো প্রয়োজন শেষে বন্ধ রাখুনঃ আপনার যদি প্রয়োজন না হয় তবে যতটা সম্ভব আপনার ফোনের ওয়্যারলেস রেডিও সুবিধা গুলো বন্ধ রাখুন। যেমন, জিপিএস, ব্লুটুথ, এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) এবং ওয়াইফাই সুবিধা। এছাড়াও বিশ্রামের সময় বা ঘুমের সময় ‘এয়ারপ্লেন মোড’ ব্যবহার করে আপনি আপনার স্মার্টফোনের সেলুলার কানেক্টিভিটিও বন্ধ রাখতে পারেন। এতে করে মূলত দুটি সুবিধা হবে। ঘুমের সময় আপনাকে কেউ বিরক্ত করতে পারবেনা এবং অবশ্যই আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারী সাশ্রয় হবে। এছাড়াও আপনি যদি ‘এয়ারপ্লেন মোড’ সিলেক্ট করে মোবাইল চার্জ করতে চান তবে দেখবেন যে আগের চাইতে দ্রুত আপনার স্মার্টফোনটির ব্যাটারী চার্জ হচ্ছে। 
৩। ‘পুশ’ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুনঃ যদি পারেন তবে আপনার স্মার্ফোনের ‘পুশ’ নোটিফিকেশনের সুবিধাটি বন্ধ রাখুন অথবা পুশ নোটিফিকেশনের ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে দিন। অর্থাৎ, ধরুন আপনি আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্টের জন্য পুশ নোটিফিকেশন ব্যবহার করেন। হয় এই ইমেইলের পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন নইলে সেটিংসে গিয়ে এর পুশ নোটিফিকেশনের টাইম বাড়িয়ে দিন। কেননা, প্রতিক্ষন এই আপডেটেড পুশ নোটিফিকেশনের জন্য আপনার স্মার্টফোনটিকে সার্ভারের সাথে কানেক্টেড হতে হয় যার ফলে কিছুটা হলেও ব্যাটারী বেশি খরচ হয়ে থাকে।
 ৪। ওয়াই ফাই কানেকশন ব্যবহার করুনঃ এই পয়েন্টের নাম পড়ে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, ‘একটু আগেইতো আমি নিজেই বলেছি ওয়্যারলেস সুবিধাগুলো বন্ধ রাখতে?’ অবাক হবার কিছু নেই, ভালো করে খেয়াল করুন, আমি অপ্রয়োজনে বন্ধ রাখতে বলেছি। কিন্তু যদি আপনার প্রয়োজন হয় ইন্টারনেট ব্যবহার করার এবং আপনি একটি ওয়াই-ফাই যোন এলাকায় থেকে থাকেন তবে সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যবহারের চাইতে ওয়াই-ফাই কানেকশন ব্যবহার করাই ব্যাটারী সাশ্রয় করবে। কেননা, সুল্যুলার নেটওয়্যার্কের চাইতে ওয়াই-ফাই সুবিধা কিছুটা হলেও কম ব্যাটারী খরচ করে থাকে।
 ৫। স্মার্টফোনটি লক করে রাখুনঃ ব্যবহার শেষে আপনার স্মার্টফোনটি লক করতে ভুলবেন না। এতে করে আপনার পকেটে বা ব্যাগে স্মার্টফোনটি রাখার পর সহজে আন-লক হবেনা বিধায় ব্যাটারী অপচয় কম হবে। এছাড়াও, আপনার অজান্তেই কোন ভাবে চাপ লেগে অন্য কারও কাছে আপনার ফোন থেকে কল চলে যাওয়াটা নিশ্চয়ই অস্বস্তিকর। 
৬। অ্যাপলিকেশনের ব্যবহারঃ বিভিন্ন রকমের হাজারো অ্যাপ্লিকেশন অনেক ভাবেই আপনার ব্যাটারী দ্রুত অপচয় করে থাকে। যেমন ধরুন, অনেক ধরনের অ্যাপলিকেশন আছে যেগুলো স্মার্টফোনের হার্ডওয়্যারের রিসোর্স বেশি ব্যবহার করে থাকে। যেহেতু এগুলো স্মার্টফোনের বেশি রিসোর্স ব্যবহার করে থাকে তাই স্বাভাবিক ভাবেই বেশি ব্যাটারী ড্রেইন করে। উদাহরণস্বরূপ, স্মার্টফোনে অনলাইনে ভিডিও দেখা বা মাল্টিপ্লেয়ার গেইম খেলা। আবার আপনি যদি একই সাথে অনেক গুলো অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে থাকেন যাকে প্রযুক্তির ভাষায় আমরা বলে থাকি ‘মাল্টি টাস্কিং’ তবে সেক্ষেত্রেও ব্যাটারী দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। আবার আমাদের মাঝে অনেকেই ‘লাইভ ওয়ালপেপার’ ব্যবহার করে থাকি যা ব্যাটারী দ্রুত ড্রেইন করে থাকে। তাই আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারীর ব্যাক-আপ নিয়ে চিন্তিত থেকে থাকেন তবে প্রথমত শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করুন - এতে করে আপনার ব্যাটারী কিছুটা সময় বেশি ব্যাক-আপ প্রদান করবে।
 ৭। ব্যবহার শেষে অ্যাপলিকেশন বন্ধ করুনঃ স্মার্টফোনের ব্যাটারী ব্যাক-আপ কম হবার জন্য এটি একটি মূল কারন। স্মার্টফোনে অনেক অ্যাপলিকেশনই ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে সবসময় এবং এর ফলে ব্যাটারী বেশি খরচ হয়। তাই, আপনি যদি কোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার সেই অ্যাপলিকেশনটি ভালো ভাবে বন্ধ না করে থাকেন তবে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে রানিং থাকবে ফলে আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারী খরচ হবে।
 ৮। কক্ষ তাপমাত্রায় স্মার্টফোনটি রাখুনঃ মূলত ৩২ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা থেকে ৯৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা হচ্ছে স্মার্টফোনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা। যেহেতু সবার পক্ষে সব ক্ষেত্রে তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব নয় তাই মনে রাখার সহজ উপায় হচ্ছে ‘কক্ষ তাপমাত্রা’। আপনার স্মার্টফোনটি যদি আপনি খুব গরম বা খুবই ঠান্ডা কোন স্থানে রাখেন তবে আপনার ব্যাটারী পার্মানেন্টলি ড্যামেজ করে দিতে পারে। তাই, স্মার্টফোনটি কক্ষ তাপমাত্রায় ব্যবহার করাই উত্তম। 
৯। সফটওয়্যার আপডেটঃ ‘সফটওয়্যার আপডেট’ খুবই গুরুত্ব পূর্ন একটি ফ্যাক্ট স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে যা ‘ফার্মওয়্যার আপডেট’ নামেও পরিচিত। প্রতিটি আপডেটের সাথে ডেভেলপাররা চেষ্টা করেন স্মার্টফোনের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট আরও উন্নত করতে তাই নিয়মিত ‘সফটওয়্যার আপডেটের’ মাধ্যমেও ব্যাটারী ব্যক-আপ বাড়ানো যেতে পারে। এই সফটওয়্যার আপডেট স্মার্টফোনটিকে ডাটা ক্যাবলের সাহায্যে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করে বা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও করা যেতে পারে।
 ১০। বাড়তি ব্যাটারীঃ যাদের কাজের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চাইতে প্রায় অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হয় তারা এক্সট্রা একটি ব্যাটারী কম্পার্টমেন্ট যুক্ত করে নিতে পারেন অথবা ব্যাটারীর বাড়তি একটা লেয়ার যুক্ত করার এই প্রক্রিয়া ঝামেলার মনে হলে আপনি একটি ব্যাটারী নিজের কাছেও রেখে দিতে পারেম। এছাড়াও, বর্তমানে ‘পাওয়ার ব্যাংক’ নামে একটি ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে প্রযুক্তি বাজারে যার সাথে ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্সট্যন্ট স্মার্টফোনের ব্যাটারী চার্জ করা যায়। আশা করি উপরের পদ্ধতিগুলো অনুসরন করে আপনি কিছুটা হলেও আগের চাইতে আপনার স্মার্টফোনটিতে ব্যাটারী ব্যাক-আপ বেশি পাবেন।