অনলাইন থেকে হাজারেরও বেশি মিউজিক ভিডিও সরিয়ে নিতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট ইউটিউব। আর এই ভিডিওগুলো সরিয়ে নেওয়ার কারণ হচ্ছে ইউটিউবের নতুন সেবা ও চুক্তি। বর্তমানে প্রতিমাসে একশ কোটিরও বেশি মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করেন।
গুগলের মালিকানাধীন ওয়েবসাইট ইউটিউবের জন্ম ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। পেপ্যালের তিন সাবেক কর্মকর্তা বিনামূল্যে ভিডিও আপলোড, শেয়ারিং ও দেখার জন্য এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। ইউটিউবে প্রথম ভিডিও আপলোড করা হয় ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল। এক বছরের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।
২০০৯ সালের ৯ নভেম্বর গুগল ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলারে কিনে নেয় ইউটিউব। ইউটিউবে ভিডিও দেখার জন্য ‘মিউজিক সিস্টেম পাস’ নামে নতুন একটি সেবা চালু করতে যাচ্ছে গুগল। এই সেবার আওতায় গ্রাহকেরা কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াই ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পারবে। এছাড়া আগে সংরক্ষণ করে রাখা কোন ভিডিও, পরবর্তীতে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া দেখার ব্যবস্থাও থাকবে। গ্রীষ্মের শেষদিকে সেবাটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সেবা গ্রাহকরা পাবেন অর্থের বিনিময়ে। ইউটিউবের প্রতিযোগী স্পটিফাই, র‍্যাপসোডি প্রভৃতি ওয়েবসাইটে এই ধরনের সেবা ইতোমধ্যেই চালু আছে।
এই নতুন সেবা প্রদানের আগে গুগল সব রেকর্ডিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক চুক্তি করবে। আর যারা এই চুক্তি করবে না গুগল তাদের ভিডিওগুলো সরিয়ে নেবে ইউটিউব থেকে। আগামী সপ্তাহ থেকেই ভিডিও সরানোর কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে গুগলের তরফ থেকে।
তিনটি বড় সংগীত প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ইউটিউবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ, সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট এবং ওয়ার্নার মিউজিক গ্রুপ। ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ১০ শতাংশ শিল্পী আর প্রতিষ্ঠান এই চুক্তিতে অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে কিছু জনপ্রিয় শিল্পীও আছেন, যারা ছোট সংগীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।
কিন্তু গুগলের মতে, ব্যান্ডগুলোর উপকার করাই তাদের সেবার উদ্দেশ্য।
তাঁদের মতে “আমাদের উদ্দেশ্য হল ইউটিউবকে চমৎকার একটা সংগীত উপভোগের মাধ্যম বানানো। আর আমরা চাই মাধ্যমটি যেন একইসঙ্গে শিল্পী ও ভক্তদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির আয়ের উৎস হয়।”